শিরোনাম
Home / আদিবাসী / তাহিরপুরে আদিবাসী নারী ধর্ষণ ঘটনায় বিলম্ব মেডিক্যাল পরীক্ষা ও নেতিবাচক ফলাফলে হাজং সংগঠনের উদ্বেগ

তাহিরপুরে আদিবাসী নারী ধর্ষণ ঘটনায় বিলম্ব মেডিক্যাল পরীক্ষা ও নেতিবাচক ফলাফলে হাজং সংগঠনের উদ্বেগ

আচিক নিউজ ডেস্ক : সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে আদিবাসী নারীর প্রতি ধর্ষণ ঘটনায় বিলম্ব মেডিক্যাল পরীক্ষা ও নেতিবাচক ফলাফলে হাজং সংগঠনের উদ্বেগ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে জাতীয় হাজং সংগঠন ও বাংলাদেশ হাজং ছাত্র সংগঠন । ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত ন্যায়বিচারের দাবিও জানিয়েছে ।

গত ১৪ আগস্ট সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর থানাধীন সীমান্তবর্তী রাজাই গ্রামে এক হাজং আদিবাসী তরুণী (২৩) ঐ গ্রামের আব্দুল রাশিদ (৪৫), পিতা আবুল কালাম কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হন। ঐ দিনই এ ধর্ষণ ঘটনায় ভিকটিমের মায়ের অভিযোগে তাহিরপুর থানায় একটি মামলা হয়। মামলা নং ১২, তারিখ ১৪/০৮/২০২১ খ্রি: ধারা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩) এর ৯ (১)। এই মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব আছেন তাহিরপুর থানার সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) আবু বকর সিদ্দিক (মোবাইল নং ০১৩১৮৩৯৭৪৭৪)। ঘটনার পরদিন ১৫ আগস্ট দুপুরের মধ্যে সুনামগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে ভিকটিমের মেডিক্যাল পরীক্ষা করায় থানা কর্তৃপক্ষ। পরীক্ষার ১৬ দিন পর গত ১ সেপ্টেম্বর থানা থেকে জানা যায়, ধর্ষণের মেডিক্যাল পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ এসেছে অর্থাৎ উক্ত পরীক্ষার ফলাফল অনুসারে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি। কিন্তু আদিবাসী নারীর প্রতি ধর্ষণের এ সত্য ঘটনায় এরকম নেগেটিভ ফলাফল শুনে ভিকটিম ও তার পরিবার সকলেই অত্যন্ত হতবাক হয়েছেন।

আমরা জাতীয় হাজং সংগঠন ও বাংলাদেশ হাজং ছাত্র সংগঠন উক্ত মেডিক্যাল পরীক্ষার ফলকে ভুল ও সন্দেহজনক মনে করছি এবং একইসাথে এই ফলাফল প্রত্যাখান করছি। আমরা বারংবার ভিকটিম ও তার পরিবারের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হয়েছি যে, ধর্ষণের ঘটনাটি সত্য ছিল। কিন্তু পরীক্ষার ফলাফল নেতিবাচক আসায় আমরা উদ্বেগ প্রকাশ করছি যে, ধর্ষণের পরীক্ষা দ্রুত ও যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে সম্পন্ন করা হয়নি অথবা এ মামলাকে হালকা ও ভিন্ন খাতে নেওয়ার উদ্দেশ্যে ফলাফল প্রকাশে কারো কোন প্রভাব বা প্ররোচনা থাকতে পারে!

ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটেছে ১৪ আগস্ট সকাল ৮টার দিকে। ঐদিন খুব সকালে হাজং কিশোরীটি বাড়ির পার্শ্ববর্তী ছোট ছড়াতে গোসল করতে যায়। তিনি সেখানে মাথায় সাবান লাগিয়ে ¯œানের কাজে মগ্ন ছিলেন। এসময় উৎপেতে থাকা অভিযুক্ত আব্দুল রাশিদ তার কাছ থেকে সাবান নেওয়ার ভান করে কাছে এসে জোড়পূর্বক ধরে কিশোরীর ইচ্ছের বিরুদ্ধে ধর্ষণের  চেষ্টা করে এবং ধর্ষণ করে। হাজং কিশোরীটি এসময় বাঁচার জন্য চিৎকার ও ছুটাছুটির চেষ্টা করলে ধর্ষক তাকে আঘাত করে ও পড়নের কাপড় ছিঁড়ে জোর জবরদস্তি করে এই শ্লীলতাহানিকর কাজটি করে। ঐ সময় প্রবল বৃষ্টি থাকার কারণে ভিকটিমের চিৎকার আশেপাশে বাড়ির লোকজন কিছু শুনতে পায়নি।

ধর্ষণ ঘটনার মেডিক্যাল পরীক্ষার ফলাফলে আমাদের উদ্বেগ ও সন্দেহ প্রকাশের কারণ হল-
১. ভিকটিমের মেডিক্যাল পরীক্ষা গ্রহণে শুরু হতে অবহেলা ছিল:
সকালে ধর্ষণের ঘটনার পর জরুরি মেডিক্যাল পরীক্ষা ও ভিকটিমের চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণের বদলে শুরু হতেই সালিশের কথা বলে সারাদিনই সময়ক্ষেপন করে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও পুলিশ প্রশাসন। এরপর ভিকটিমের পরিবার বিচারের দাবি অব্যাহত রাখলে সালিশ থেকে পুলিশ অভিযুক্তকে আটক করে এবং ভিকটিম ও ভিকটিমের অভিভাবককে থানায় আসতে বলে। ভিকটিম ও তার পরিবার দ্রুত মেডিক্যাল পরীক্ষা করতে চাইলে থানা কর্তৃপক্ষ সময়ক্ষেপন করে পরবর্তী দিনে পরীক্ষা করানোর কথা বলে। এরপর পরবর্তী দিন ১৫ আগস্ট সকালে ভিকটিমকে মেডিক্যাল টেস্ট করানোর জন্য সুনামগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এরই মধ্যে ২৪ ঘন্টার অধিক সময়ক্ষেপন হয়ে যায়।
২. ধর্ষণ ঘটনাকালে প্রবল বৃষ্টিপাত ছিল। এছাড়া ঘটনায় শিকার ভিকটিম অত্যন্ত  ভীত ও কাতর হয়ে পড়েছিল এবং মেডিক্যাল টেস্ট এর প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতনতার অভাবে ঘটনার পরই ভিকটিম গোসল করে ফেলেছিল। এর ফলেও ধর্ষণের আলামত নষ্ট হতে পারে।

৩. ঘটনাকালের ভিকটিমের পড়নের ছেঁড়া কাপড় থানায় পৌঁছালেও সেটা পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে না পাঠিয়ে থানার হেফাজতে রাখা হয়।

৪. ধর্ষণের শিকার কিশোরীটি হাজং সম্প্রদায়ের প্রত্যন্ত এলাকার অত্যন্ত সহজ ও সরল প্রকৃতির। বাইরের মানুষের সাথে তার মেলামেশার অভিজ্ঞতা কম এবং নিজ মাতৃভাষা ‘হাজং’ ছাড়া বাংলা সে খুব কমই বুঝতে ও বলতে পারে। মেডিক্যাল টেস্ট ও তার জবানবন্দিতে তাকে সহযোগিতার জন্য কোন দ্বিভাষীর ব্যবস্থা করা হয়নি।

এই অবস্থায় আমাদের দাবি-
১. সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ধর্ষণের শিকার আদিবাসী তরুণীর মেডিক্যাল পরীক্ষায় কোন অবহেলা ও ফলাফলে প্ররোচনা হয়ে থাকলে তা খুঁজে বের করা এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট অভিযুক্তদের শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা।
২. আদিবাসী নারীর প্রতি ধর্ষণ ঘটনার সম্পৃক্ত অভিযুক্ত আসামী আব্দুল রাশিদকে রক্ষার কোন ষড়যন্ত্র চলতে থাকলে তা শক্তভাবে প্রতিহত করা।
৩. ঘটনাটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত আসামীকে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা।
৪. দরিদ্র, অসহায় ও অসচেতন এই ক্ষতিগ্রস্ত ভিকটিম ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।  
৫. ক্ষতিগ্রস্ত নারীর মানসিক অবস্থা জোরদার করণের জন্যে কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা এবং মামলা পরিচালনায় আইনী সহায়তা প্রদান করা।

About achikn1

আরও পড়ুন

সুনামগঞ্জে হাজং নারীকে ধর্ষণকারী আব্দুল রাশিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন

আচিক নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুরের রাজাই গ্রামে এক আদিবাসী হাজং নারীকে ধর্ষণের প্রতিবাদে ও …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Recent Comments

No comments to show.