শিরোনাম
প্রথম পাতা / ফিচার পোস্ট / বানিয়ারচর কাথলিক চার্চে বোমা হামলা ও সুনীল গমেজের হত্যাকান্ডের বিচারের দাবিতে স্মরণ ও প্রার্থনা সভা

বানিয়ারচর কাথলিক চার্চে বোমা হামলা ও সুনীল গমেজের হত্যাকান্ডের বিচারের দাবিতে স্মরণ ও প্রার্থনা সভা

আচিক নিউজ ডেস্ক : ৫ জুন বানিয়ারচর কাথলিক চার্চে বোমা হামলা ও সুনীল গমেজের হত্যাকান্ডের বিচারের দাবিতে ভার্চুাল স্মরণ ও প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ২০ বছর ধরে বানিয়ারচর গির্জায় বোমা হামলায় নিহত ১০ জন শহীদ ও ২৬ জন হতাহতের ঘটনার কোনো সুরাহা হয়নি। বিচার তো দূরে থাক এখনো পর্যন্ত চার্জশীট দাখিলই হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ খ্রীষ্টান এসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু সংগঠন এই নৃশংস জঘণ্য বোমা হামলার বিচার দাবি করে আসছে।
বাংলাদেশ খ্রীষ্টান এসোসিয়েশনের প্র্রেসিডেন্ট নির্মল রোজারিও’র সভাপতিত্বে কর্মসূচীতে উপস্থিত ছিলেন ঢাকার আর্চবিশপ বিজয় এন. ডি’ক্রুজ ওএমআই, বাংলাদেশ ওয়ার্কাস পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের মহাসচিব রানা দাশগুপ্ত, ময়মনসিংহ-১ আসনের সংসদ সদস্য জুয়েল আরেং এমপি, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গেøারিয়া ঝর্ণা সরকার, ঢাকা ক্রেডিটের প্রেসিডেন্ট পংকজ গিলবার্ট কস্তা, ঢাকা ক্রেডিটের সাবেক প্রেসিডেন্ট বাবু মার্কুজ গমেজ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রী কার্যনির্বাহী সদস্য উপাধ্যক্ষ রেমন্ড আরেং, বাংলাদেশ বুড্ডিস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বিক্ষু সুনন্দ প্রিয় মহাথের, কলামিস্ট ও মানবাধিকার কর্মী সঞ্জিব দ্রং, আমেরিকা কানেক্টিকাট বিসিএ’র উপদেষ্টা ডেভিড স্বপন রোজারিও, আমেরিকার মেরিল্যান্ড বিসিএ শাখার প্রেসিডেন্ট বাবলু গমেজ, ইম্মানুয়েল ব্যাপ্টিস্ট চার্চ সংঘের রেভা বাইরন পি. বনিকসহ আরো অনেকে।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জেনারেল ইগ্নাসিওস হেমন্ত কোড়াইয়া ও ঢাকা ন্যাশনাল ওয়াইএমসিএ’র সেক্রেটারি নিপুন সাংমা।
হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত বলেন, ‘আজেকর এই কোন বাংলাদেশ, যে দেশে ২০০১ সালে এবং ২০১৬ সালে হত্যাযজ্ঞ ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে মৌলবাদী নৃশংসতা দেখেছি। হলি আর্টিসান ঘটনার পূর্বে এসব মৌলবাদী ঘটনা ঘটার পর আমরা সরকারের নজরে আনার চেষ্টা করেছি, কিন্তু সরকার নিস্ক্রীয় ছিল। আসলে সরকার আগেই সক্রিয় থাকলে জঙ্গিরা এত তৎপর হতে পারতো না। জঙ্গিবাদ রাষ্ট্রের রন্ধ্রে রন্ধ্রে পৌঁছে গেছে। সরকারকেই এই মৌলবাদের মূল উপরে ফেলতে হবে।’
অনুষ্ঠানে সভাপতি নির্মল রোজারিও বলেন, ‘২০০১ সালের ৩ জুন বানিয়ারচর বোমা হামলা ও ২০১৬ সালের ৫ জুন সুনীল হত্যা দুটিই করেছে জঙ্গিরা। জঙ্গিরা আন্তর্জাতিক মহলে তাদের শক্তির জানান দিতেই এই হত্যাকান্ডসহ নানা ধরণের জঙ্গি হামলা চালিয়েছে। যদিও সুনীল গমেজের হত্যাকারীরা অন্য একটি মামলায় দোষিসাবস্ত হয়েছে। কিন্তু ২০ বছর পরও বারবার দাবি জানানোর পরও আমরা বানিয়ারচর বোমা হামলার কোনো বিচার পাইনি।’
তিনি বলেন, ‘বানিয়ারচর বোমা হামলার চার্জশীটই এখনো জমা দেওয়া হয়নি, তার মানে আমাদের দাবি উপেক্ষিত হচ্ছে। জঙ্গিদের এসব অপরাধের বিচার না হলে অপরাধ অব্যাহতই থাকবে। তাই এত বছর পরও বানিয়ারচর বোমা হামলার বিচারের জন্য আন্দোলন করতে হয়। একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে জঙ্গিদের দমন করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে আর্চবিশপ বিজয় এন. ডি’ক্রুজ বলেন, ‘২০০১ সালে বোমা হামলা করে বানিয়ারচরের নিরীহ ১০ জন খ্রিষ্টভক্তকে মেরে ফেলা হয়েছে। আরো ২৬জন মারাত্মক ভাবে আহত হয়েছেন। আবার ২০১৬ সালে সুনীল গমেজকে হত্যা করা হয়েছে। একটি অস্থিতিশীল রাষ্ট্র বানানোর পায়তাড়া এটি। বাংলাদেশে সকল মতের মানুষের একটি অসা¤প্রদায়িক দেশ। আমরা সকলেই সরকারের উন্নয়নের সাথে রয়েছি। খ্রিষ্টান স¤প্রদায় সরকারের পাশাপাশি বাংলাদেশের উন্নয়নে অবদান রাখছে। তাই সরকারকেও সা¤প্রদায়িক অধিকার সংক্ষণ করতে হবে।’
বাংলাদেশ ওয়ার্কাস পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি বলেন, ’২০ বছর পরও আজকের এই দাবি প্রাসঙ্গিক। বাংলাদেশ থেকে জঙ্গিবাদ নির্মূল হয়নি। এখনো জঙ্গিরা বাংলাদেশকে মৌলবাদী রাষ্ট্র বানাতে চায়। শুধু বানিয়ারচর বোমা হামলা নয়, রাষ্ট্রীয়ভাবেও জঙ্গিরা বিভিন্ন ধরনের হামলা চালিয়েছিল। এমনকি মুক্তিযুদ্ধে অবদানকারী দলও সরকার গঠনের পরও হামলা হয়েছে। আমরা দায়মুক্তির সংস্কৃতির কথা বলি নানা ধরনের হত্যা সম্পর্কে, কিন্তু বানিয়ারচর হামলা নিয়ে কিছুই বলা হয়নি, তাই আজো বানিয়ারচর হামলা নিয়ে দাবি জানাতে হয়।’
‘মৌলবাদ সমর্থন না পেলে হেফাজতের মতো দল বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের উপর বা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমন উপলক্ষে তান্ডব চালাতে পারতো না’ বলেন এমপি মেনন।
এ ছাড়াও এদিন আরো বক্তব্য রাখনে জুয়েল আরেং এমপি, গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার এমপি, আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য উপাধ্যক্ষ রেমন্ড আরেং, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের মহাসচিব রানা দাশগুপ্ত, ঢাকা ক্রেডিটের প্রেসিডেন্ট পংকজ গিলবার্ট কস্তা, আমেরিকার বিসিএ প্রেসিডেন্ট দিলীপ গমেজ, মানবিধিকার কর্মী সঞ্জিব দ্রং, বিসিএ’র যুগ্ম মহাসচিব জেমস সুব্রত হাজরা, বনপাড়ার বিসিএ শাখার জেনারেল সেক্রেটারি জেমস রোজারিও, বাংলাদেশ বুড্ডিস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ভিক্ষু সুনন্দা প্রিয় মহাথের প্রমুখ।
র্বিভিন্ন সময় সরকারের বিভিন্ন মহলে এই হত্যা মামলার বিচার সম্পন্ন করে দৃষ্টান্তমূলক দাবি করে আসছে বাংলাদেশ খ্রীষ্টান এসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রার্থনা করেন নিপুন সাংমা এবং শেষ প্রার্থনা করেন ডেভিড স্বপন রোজারিও।
এ ছাড়াও প্রার্থনা সঙ্গীত পরিবেশন করেন রেক্সোনা ও দিলীপ মন্ডল এবং অন্যান্যরা। সভায় অন্যান্যেও মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা ক্রেডিটের ডিরেক্টর সলোমন রোজারিও, পাপিয়া রিবেরু, পাপড়ী আরেং, মনিকা গমেজ, পল্লব লিনুস ডি রোজারিও, ক্রেডিট কমিটির চেয়ারম্যান সুকুমার লিনুস ক্রুশ, সদস্য অন্তর মানকিন, লরেন্স পিটার গমেজ, বিসিএ ল²ীবাজার শাখার সাধারণ সম্পাদক ভিক্টর রে মোশী মন্ডল প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ২০০১ সালের ৩ জুন সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে, গোপালগঞ্জ জেলার মোকসুদপুর থানাধীন বানিয়ারচর ক্যাথলিক চার্চে রবিবাসরীয় খ্রিষ্টযাগ চলাকালীন সময়ে জঙ্গীদের নিশংস বোমা হামলায় ১০ জন নিরীহ খ্রিষ্টভক্ত নিহত ও ২৬ জন গুরুতর আহত হয়েছিল। এ জঘণ্য এ বোমা হামলায় সেদিন যাঁরা নিহত হয়েছিলেন তাঁরা হলেন- মাইকেল মল্লিক, মনমথ শিকদার, পিতর সাহা, অমর বিশ্বাস, বিনোদ দাশ, জ্যোতিষ বিশ্বাস, সুমন হালদার, ঝিন্টু মন্ডল, রড্রিক যেত্রা ও সঞ্জিবন বাড়ৈ।
এ ছাড়াও ৫ জুন ২০১৬ সালে তিনি আতাতায়ীর হাতে নিহত হন। হত্যার দিন রোববার গির্জায় পবিত্র খ্রিষ্টযাগে অংশ নিয়েছিলেন নাটোরের বড়াইগ্রামের বনপাড়ার সুনীল গমেজ। গির্জা থেকে বের হয়ে বনপাড়া বাজার থেকে সবজি কিনে বাড়ি ফিরেন। দুপুরের দিকে বসে ছিলেন নিজের বাড়ির সামনে তার মুদি দোকানে। সুনশান নীরবতা ছিলো। তিনজন মোটর সাইকেলধারী সুনীলকে নিষ্ঠুরভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে।

  • প্রেসবিজ্ঞপ্তি
Facebook Comments
Print Friendly, PDF & Email

এক নজরে

ঝিনাইগাতীতে দুর্নীতি বিরোধী বিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

আচিক নিউজ ডেস্ক : শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে কারিতাস সিডস কর্মসূচির উদ্যোগে সংলাপের কিশোর কিশোরীদের নিয়ে এক …

error: Content is protected !!