শিরোনাম
প্রথম পাতা / বাংলাদেশের গারো আদিবাসী / গারোরা কি একাধিক বিয়ে করতে পারে?

গারোরা কি একাধিক বিয়ে করতে পারে?

মিকরাক ম্রং সোহেল : মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ৬ ধারা অনুযায়ী, কোন বিয়ে বলবৎ থাকা অবস্থায় কোন মুসলিম পুরুষ পুনরায় নতুন বিয়ে করতে পারবে না, যদি সে তা করতে চায়, তাকে সালিশ পরিষদ (আরবিট্রেশন কাউন্সিল) এর অনুমতি নিতে হবে। নতুন বিয়ের আবেদনের সময় তাকে প্রথম বা বর্তমান স্ত্রীর অনুমতি নিতে হবে, স্ত্রীর অনুমতি ব্যতিত সে আবেদন করতে পারবে না। সালিশ পরিষদের অনুমতি ছাড়া কোন মুসলিম পুরুষ বিয়ে করলে তার এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে অথবা সর্বোচ্চ দশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়ই হতে পারে। অর্থাৎ, একজন মুসলিম পুরুষ তার স্ত্রী ও সালিশ পরিষদের অনুমতি পেলে একাধিক বিয়ে করতে পারে। তবে মুসলিম স্ত্রীর ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়।

দণ্ডবিধি’র ৪৯৪ ধারায় বলা আছে, কোন স্বামী বা স্ত্রী তার বিয়ে বলবৎ থাকাবস্থায় আবার নতুন বিয়ে করতে পারবে না, করলে বিয়ে অবৈধ হবে এবং স্বামী বা স্ত্রী থাকলেও যে নতুন বিয়ে করেছে, তার সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে ও পাশাপাশি অর্থদণ্ডও হতে পারে। মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের উল্লিখিত নীতি মুসলিম পুরুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হওয়ার কারণে দণ্ডবিধি’র এই ধারায় স্বামী ও স্ত্রী উভয়ের কথা লেখা থাকলেও তা মুসলিম পুরুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। অর্থাৎ, দণ্ডবিধি’র ৪৯৪ ধারা অনুসারে, মুসলিম নারী তার স্বামীর সাথে সংসার থাকাবস্থায় নতুন বিয়ে করতে পারবে না, করলেও তা অবৈধ হবে এবং তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
মুসলিম স্বামী বা স্ত্রী উভয়ই তালাক বা বিবাহ বিচ্ছেদের পর নতুন বিয়ে করতে পারে, সেক্ষেত্রে কোন আইনগত বাধা নেই।
এবার দেখা যাক, গারোদের জন্য কোন আইন প্রযোজ্য।
গারো প্রথায় সাধারণভাবে বহুবিবাহের নীতি নেই। আগেকার দিনে কোন সচ্ছল পুরুষ প্রথম স্ত্রী ও স্ত্রীর চ্রাদের কাছে অনুমতি নিয়ে একাধিক বিয়ে করতো। স্ত্রী বা চ্রাদের অনুমতি না পেলে একাধিক বিয়ে সম্ভব ছিল না। স্ত্রীর ক্ষেত্রেও প্রায় একই নীতি। স্বামী জীবিত ও আ.খিম থাকাবস্থায় নতুন বিয়ে নিষিদ্ধ ছিল। প্রথা ভঙ্গ করে নতুন বিয়ে করলে তা অবৈধ হতো এবং এর জন্য শাস্তিও ভোগ করতে হতো। তবে বিয়ে বিচ্ছেদ বা সঙ্গী মারা যাওয়ার কারণে আ.খিম শেষ হলে নতুন বিয়ের ক্ষেত্রে কোন বাধা ছিল না। এছাড়া, অনচাপার ক্ষেত্রে একাধিক স্ত্রী একই সময়ে থাকতো।
বর্তমানে বাংলাদেশের গারোরা প্রায় শতভাগ খ্রীষ্টান। খ্রীষ্ট ধর্ম গ্রহণ করলেও উত্তরাধিকারসহ পারিবারিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে গারোরা প্রথা অনুসরণ করে। কিন্তু, বিয়ের বৈধতার জন্য সম্পূর্ণ খ্রীষ্টান বিবাহ আইন প্রয়োগ করা হয়। বিয়ের সময় ফাদার বা পালক বা ধর্মীয় গুরুকে আহবান জানায় গারোরা। তিনিই বিয়ে পড়ান এবং খ্রীষ্টান বিবাহ আইন, ১৮৭২ অনুযায়ী দম্পতিকে বিয়ের সনদ প্রদান করেন। বৈধতা আইনের মাধ্যমে হওয়ায় এই সন্ধির ক্ষেত্রে আইনের বাধ্যবাধকতা মানতে হবে। খ্রীষ্টানদের জন্য প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী, স্বামী বা স্ত্রী জীবিত থাকা অবস্থায় পুনরায় নতুন বিয়ে করা যাবে না। নতুন বিয়ে করলে যে কেউ বিয়ে বাতিলের জন্য মামলা করতে পারে। এছাড়া, স্বামী বা স্ত্রী জীবিত থাকা অবস্থাতেও কেউ নতুন বিয়ে করলে তার জন্য দণ্ডবিধি’র উল্লিখিত ৪৯৪ ধারা প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ, গারোদের নারী কিংবা পুরুষ উভয়ের জন্যই দণ্ডবিধি’র ৪৯৪ ধারা প্রযোজ্য। তবে আইনগতভাবে বিয়ে বিচ্ছেদ হলে কিংবা সঙ্গী মারা গেলে নতুন বিয়ের ক্ষেত্রে কোন বাধা নেই।
তথ্যসূত্র:
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১
দণ্ডবিধি, ১৮৬০
খ্রীষ্টান বিবাহ আইন, ১৮৭২
ডিভোর্স আইন, ১৮৬৯
গারো কাস্টমারি ল’জ ট্রেডিশানস এন্ড প্র্যাকটিসেস
হিস্ট্রি এন্ড কালচার অব দি গারোস

লেখক: সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট

Facebook Comments
Print Friendly, PDF & Email

এক নজরে

ক্রয়কৃত সম্পত্তি কে পাবে? ছেলে নাকি মেয়ে?

মিকরাক ম্রং সোহেল : এটি স্বীকৃত যে, মাতৃসম্পত্তি বা বংশপরম্পরার সম্পত্তির প্রকৃত উত্তরাধিকার শুধু মেয়েদের …

error: Content is protected !!