শিরোনাম
প্রথম পাতা / আইন / হাইকোর্টের আদিবাসী বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ‘র অবসর গ্রহণ

হাইকোর্টের আদিবাসী বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ‘র অবসর গ্রহণ

আচিক নিউজ ডেস্ক : সংবিধান অনুযায়ী ৬৭ বছর পূর্ণ হওয়ায় আগামী ৭ আগস্ট অবসরে যাচ্ছেন হাইকোর্টের বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ছিল তার শেষ কর্মদিবস। এ উপলক্ষে তাকে বিদায় সংবর্ধনা দেন অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি।

এই সময় রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বিচারপতিকে সংবর্ধনা জানিয়ে বক্তব্য দেন। মাহবুবে আলম বলেন, ‘বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ একজন রুচিবান ও সংস্কৃতিবান ব্যক্তি। তিনি ব্যক্তি পর্যায়ে সাধু ও সৎ।’

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, ‘বিচারপতি হিসেবে আপনার একটা গুন ছিল। আপনি শুনানি শেষের সঙ্গে সঙ্গে রায় দিয়ে দিতেন। এতে বিচারপ্রার্থীসহ আইনজীবীরা বেশি খুশি হতেন।’

পরে বিদায়ী ভাষণে বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ বলেন, ‘করোনার এই ক্রান্তিকালে আমার প্রতি আপনাদের আন্তরিকতা ও ভালোবাসার বহির্প্রকাশ স্বরূপ এই অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য আপনাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আমার কাজক্রমে আমি আপনাদের সঙ্গে সুন্দর ও সোহার্দ্য সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করেছি। আদালতের কার্যক্রমে আপনারা সক্রীয়ভাবে অংশগ্রহণ করে আমাকে সহযোগিতা করেছেন সেজন্য আপনাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। আজকে থেকে প্রায় ৩৭ বছর আগে ১৯৮৩ সালের ২০ এপ্রিল মুনসেফ পদে বিচার বিভাগে আমি যোগদান করেছিলাম।’

সিনিয়র আইনজীবীদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ বলেন, ‘আপনাদের সঙ্গে যারা জুনিয়র আইনজীবী আছে, তারা যেনও বর্তমান কঠিন সামাজিক প্রেক্ষাপটে তাদের পরিবাবর পরিজন নিয়ে সুষ্ঠুভাবে এবং সম্মানজনকভাবে বাঁচতে পারে সেদিকে আপনারা খেয়াল রাখবেন। কেন না আমিও একদিন জুনিয়র আইনজীবী ছিলাম। সেহেতু জুনিয়রদের দুঃখ আমি বুঝি। বারের সভাপতি আমার ইয়াতিম খানার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথা বলেছেন। ওনাকে অনেক ধন্যবাদ। আসলে আমার ১১টি ইয়াতিম খানার সঙ্গে সম্পৃক্ততা আছে। আমার হাজার হাজার ছেলে-মেয়ে।’

হাইকোর্টে প্রায় দশ বছরের বিচারিক জীবনে অনেক মামলার রায় দিয়েছেন ভবানী প্রসাদ সিংহ। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ইংরেজি বিভাগের ছাত্র জুবায়ের আহমেদ হত্যা, জাসদ ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগর শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক মোমিন, লক্ষ্মীপুরে স্কুলছাত্রী স্মৃতি নাথ সীমাকে ধর্ষণের পর হত্যা এবং নরসিংদীর ছয় হত্যার মত আলোচিত মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর রায় অন্যতম।
বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ১৯৫৩ সালের ৮ অগাস্ট সিলেটের কোতয়ালি থানার মাছিমপুর গ্রামে আদিবাসী মনিপুরী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা সুদীশ চন্দ্র সিংহ ও মা কৃষ্ণভানু রাজকুমারী। ইংরেজি সাহিত্যে উচ্চশিক্ষা শেষ করে এলএলবি করেন। ১৯৭৯ সালের ১ মার্চ সিলেট জেলা বারে আইনজীবী হিসেবে তালিকভুক্ত হন। ১৯৮৩ সালের ২০ এপ্রিল মুনসেফ হিসেবে (বর্তমানে সহকারী জজ) বিচারক জীবন শুরু করেন। ২০০০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি তিনি জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে পদোন্নতি পান। এরপর ২০১০ সালের ১২ ডিসেম্বর তাকে দুই বছরের জন্য হাই কোর্টের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে ২০১২ সালের ১০ ডিসেম্বর হাই কোর্টের স্থায়ী বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান।
উল্লেখ্য, এর আগে সুপ্রীমকোর্টে আরেক আদিবাসী বিচারপতি ছিলেন। তিনি সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা।
Facebook Comments

এক নজরে

ময়মনসিংহে সংবাদ সম্মেলনে ১১ দফা বাস্তবায়নের দাবি

আচিক নিউজ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উদযাপন উপলক্ষে ১১ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে ময়মনসিংহে সংবাদ সম্মেলন …

error: Content is protected !!