প্রথম পাতা / আইন / একজন গারো কিভাবে তার স্বামী বা স্ত্রীকে ডিভোর্স দিতে পারে?

একজন গারো কিভাবে তার স্বামী বা স্ত্রীকে ডিভোর্স দিতে পারে?

মিকরাক ম্রং সোহেল: খ্রীষ্ট ধর্ম গ্রহণের পূর্বে গারোরা প্রথা অনুযায়ী বিয়ে করতো। বিয়ে বিচ্ছেদও করা হতো প্রথা অনুসরণ করে। খ্রীষ্টান হওয়ার পর নতুন ধর্ম অনুসারে বিয়ের প্রচলন হয়। খ্রীষ্টান নিয়মে বিয়ের কারণে প্রথাগত আইন অনুযায়ী বিচ্ছেদ করলে তা আইনগত হবে না। এমনকি, নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে এফিডেভিট করে বিচ্ছেদও আইনসম্মত নয়। বিয়ে বিচ্ছেদ করতে হলে ডিভোর্স আইন বা বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৮৬৯ এর বিধান অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

বিবাহ বিচ্ছেদ আইনে বিবাহ বিচ্ছেদ, বিবাহ বাতিল ও স্বামী-স্ত্রী পৃথকীকরণের বিধান রয়েছে। প্রত্যেকটি ব্যবস্থার জন্য এই আইনে উল্লিখিত কারণ থাকলে আদালতে আবেদন করতে হবে।
বিবাহ বিচ্ছেদ: স্বামী একটি কারণে বিবাহ বিচ্ছেদ চাইতে পারে, তা হল স্ত্রীর ব্যভিচার। অর্থাৎ, স্ত্রী ব্যভিচার করেছে অভিযোগ করে স্বামী আদালতে বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য দাবি জানাতে পারে। অন্যদিকে, স্ত্রী বিবাহ বিচ্ছেদ চাইতে পারে যদি স্বামী স্বধর্ম ত্যাগ করে অন্য ধর্ম গ্রহণ করে এবং এর পাশাপাশি নিম্নের যেকোন একটি কারণ যুক্ত থাকে- স্বামী অন্য নারীকে বিয়ে করেছে, অজাচারভাবে ব্যভিচার করেছে, ব্যভিচারের পাশাপাশি বহু বিবাহও করেছে, ব্যভিচারের পাশাপাশি আরেক নারীকে বিয়ে করেছে, ধর্ষণ বা সমকামিতা করেছে বা পশুবৎ হয়েছে, ব্যভিচারের পাশাপাশি এমন নিষ্ঠুর হয়েছে যার জন্য পৃথকীকরণ চাওয়া যায় ও ব্যভিচারের পাশাপাশি দুই বছর বা এর বেশি সময় ধরে স্ত্রীকে ত্যাগ করেছে। অর্থাৎ, স্বামী শুধু ব্যভিচার করেছে এই অভিযোগে বিবাহ বিচ্ছেদ চাওয়া যাবে না, এর পাশাপাশি স্বামীর ধর্ম ত্যাগও থাকতে হবে।
স্বামী-স্ত্রী পৃথকীকরণ: এর অর্থ হল স্বামী ও স্ত্রী আদালতের মাধ্যমে আলাদা থাকতে পারবে, যদিও বিবাহ বলবৎ থাকবে। ব্যভিচার, নিষ্ঠুরতা অথবা দুই বছর বা এর বেশি সময় ধরে আরেকজনকে ত্যাগ করেছে- এই কারণে স্বামী বা স্ত্রী পৃথকভাবে বাস করার জন্য আদালতে আবেদন করতে পারে। আদালতের মাধ্যমে পৃথক বাসকরণের আইনী ভিত্তি আছে। এই সময় যে কেউ কোন সম্পত্তি অর্জন করলে সেই সম্পত্তিতে অপরপক্ষের কোন অধিকার জন্মায় না। এমনকি, এই সময়ের মধ্যে কোন মামলা বা চুক্তিরও দায়-দায়িত্ব আরেকজনের কাধে বর্তায় না।
বিবাহ বাতিল: স্বামী বা স্ত্রী যে কেউ চারটি কারণে যেকোনটি উল্লেখ করে বিবাহ বাতিলের দরখাস্ত দিতে পারে। চারটি কারণ- অপরপক্ষ বিয়ের সময় অক্ষম ছিল, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আত্মীয়তার সম্পর্কের কারণে বিয়ে নিষিদ্ধ ছিল, অপরপক্ষ মানসিক রোগী বা হাবা ও পূর্বের স্বামী বা স্ত্রী জীবিত আছে যার বিয়ে এখনও বলবৎ। এছাড়া, কাউকে জোর করে বিয়ে দেওয়া হয়েছে- এই অভিযোগেও হাইকোর্ট বিবাহ বাতিল করতে পারে। বিবাহ বাতিল ও বিবাহ বিচ্ছেদের মধ্যে পার্থক্য হল- প্রথম থেকেই বিয়েটা অবৈধ, যা পরবর্তীতে দৃষ্টিগোচর হয়েছে তা হল বিবাহ বাতিল এবং অন্যদিকে, বিয়ে বৈধ কিন্তু উল্লিখিত কারণে সংসার করা সম্ভব নয় তা হল বিবাহ বিচ্ছেদ।
উপর্যুক্ত প্রত্যেকটি পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য জজ আদালত বা হাইকোর্টে আবেদন করা যাবে। এখানে মনে রাখতে হবে, এখানে মামলা করার কথা বলা হয়নি, আবেদনের কথা বলা হয়েছে। এই কারণে মামলার জন্য যে সকল ধাপ বা নীতি অনুসরণ করতে হয়, আবেদনের ক্ষেত্রে তা করার প্রয়োজন নেই। তাই খুব কম সময়েই এই ধরনের দরখাস্ত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়।
লেখক: জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
Facebook Comments

এক নজরে

পাহাড় থেকে আদালত – ৬

মিকরাক ম্রং সোহেল: জেলখানায় আমরা। মহিলা সেকশনে। সাথে তুষি, নুসরাত, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহাদাত হোসেন স্যার …

error: Content is protected !!