শিরোনাম
প্রথম পাতা / আন্তর্জাতিক / করোনাভাইরাস ঝুঁকিতে বাংলাদেশ, সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিদের

করোনাভাইরাস ঝুঁকিতে বাংলাদেশ, সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিদের

আচিক নিউজ ডেস্কঃ  দেশে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কেউ শনাক্ত হয়নি তবে ঝুঁকি আছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ইতিমধ্যে সরকার বেশ কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। ১৪ দিনে সন্দেহভাজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ৩৯ জনের লালার নমুনা পরীক্ষার পর গতকাল সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশে কোনো আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়নি বলে জানিয়েছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)।

২১ ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত ৫ হাজার ৯৫২ জন চীন থেকে এসেছেন। আরও ১৭১ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরে আসতে চাইছেন। তবে সেখান থেকে যাঁরাই আসবেন, তাঁদের সবাইকে ১৪ দিন উত্তরার আশকোনায় বিশেষ ক্যাম্পে রাখা হবে। বাংলাদেশে যাতে করোনাভাইরাস না আসতে পারে, সে জন্য প্রতিরোধমূলক যত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, তা নেবে সরকার। গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় এ সিদ্ধান্ত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। পরে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ-সংক্রান্ত নানা তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ থেকে উড়োজাহাজ পাঠাতে একটু সমস্যা হচ্ছে। কারণ, একবার উড়োজাহাজ চীনে গেলে সেই পাইলটকে অন্য কোনো দেশ ঢুকতে দিচ্ছে না। তাই চীনের কোনো এয়ারলাইনসের ভাড়া করা উড়োজাহাজে বাংলাদেশিদের আনার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

এদিকে আশকোনা হজ ক্যাম্পে আলাদা করে রাখা চীন ফেরতদের মধ্যে একজনের জ্বর হয়েছে। তাঁকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ওই হাসপাতালে ভর্তি থাকা আটজনের মধ্যে একজন ছাড়া অন্য সবাইকে হজ ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে তিনটি পরিবারের আটজন ভর্তি আছেন। তাঁদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

চীনে রোববার সন্ধ্যা থেকে পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ৮০০ জন। সংক্রমণ প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে। আর ওই ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে ৫৭ জন। বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো চীনে কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। সাংহাইসহ চীনের বড় বড় শহরের রাস্তা এখন ফাঁকা। যতটা সম্ভব ঘরে থাকছে মানুষ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালগুলো হিমশিম খাচ্ছে।

আইইডিসিআর সূত্র জানিয়েছে, ২১ ডিসেম্বর থেকে গতকাল পর্যন্ত ৫ হাজার ৯৫২ জন যাত্রী চীন থেকে বাংলাদেশে এসেছেন। বিমানবন্দরে এঁদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। সন্দেহভাজন প্রত্যেকের ‘২০১৯-এনসিওভি’ শনাক্তের পরীক্ষা হয়েছে। একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নতুন করোনাভাইরাস শনাক্তের সুনির্দিষ্ট রিএজেন্ট আইইডিসিআরের কাছে পৌঁছেছে।

ছবিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত দেশসমূহ। ছবি ও তথ্য সুত্রঃ ভয়েস অফ আমেরিকা ও এএফপি

উল্লেখ্য গত ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরের মানুষ নতুন ধরনের ভাইরাসে আক্রান্ত হতে থাকে। ৩১ ডিসেম্বর বিশেষজ্ঞরা জানতে পারেন, ভাইরাসটি একেবারে নতুন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এর নাম রাখে ‘২০১৯-এনসিওভি’। এ পর্যন্ত পার্শবর্তী দেশ ভারতসহ ২৫টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে ভাইরাসটি।

 

তথ্যসূত্রঃ প্রথম আলো।

Facebook Comments

এক নজরে

আমরা কি আদিবাসী পরিচয় দিতে পারি?

মিকরাক ম্রং সোহেল : আদিবাসী পরিচয়ের জন্য আমরা অনেকদিন ধরে দাবি করে আসছি। মিছিল, মানববন্ধন, সমাবেশ, …

error: Content is protected !!