শিরোনাম
প্রথম পাতা / ফিচার পোস্ট / সমতলের আদিবাসীদের জন্য একটি ভূমি কমিশন গঠন করা জরুরি

সমতলের আদিবাসীদের জন্য একটি ভূমি কমিশন গঠন করা জরুরি

সোহেল হাজং, সাতক্ষিরা থেকে ফিরে: আদিবাসীদের ভূমি বিষয়টি অনেক জটিল। সমতলের আদিবাসীদের ভূমি সমস্যা সমাধানে একটি ভূমি কমিশন গঠনের দাবিটি যৌক্তিক। জাতীয় পর্যায়ে এ দাবিটি আরো জোরালো করা প্রয়োজন। এমনটিই বলেন সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার, নাহিদ হাসান খান।

জাতীয় নীতিমালা ও এসডিজি বাস্তবায়নের মনিটরিং শীর্ষক তিনব্যাপী একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি আরো বলেন আদিবাসীদের আর গতানুগতিক শিক্ষায় আবদ্ধ না থেকে কারিগরি শিক্ষার প্রতি জোর দিতে হবে। তাহলে তাদের মাঝে বেকার সমস্যা কিছুটা লাঘব হবে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতা প্রদানে বেআইনীভাবে অর্থ আদায় কেন হয় এমন একটি প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এভাবে টাকা নেয়া বেআইনী। কেউ যদি কোন ভাতা দেওয়ার নাম করে অর্থ দাবি করে তাহলে তাকে ১০৬ নম্বরে কল করে দূর্নীতি দমন কমিশনের নিকট অভিযোগ দায়ের হবে।

কাপেং ফাউন্ডেশন ও সুন্দরবন আদিবাসী মুন্ডা সংস্থা (সামস্) এর যৌথ উদ্যোগে এ কর্মশালাটি ১৪ অক্টোবর থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার সুশীলন ট্রেনিং সেন্টার-এ আয়োজন করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের সাথে আদিবাসী নেতৃবৃন্দের লবী ও সম্পর্ক স্থাপন- এ কর্মশালার অন্যতম উদ্দেশ্য। স্থানীয় আদিবাসী নেতা
দীপঙ্কর মুন্ডা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কর্তৃক সমতলের আদিবাসীদের জন্য যে বরাদ্দ দেওয়া হয় তা শ্যামনগর উপজেলার আদিবাসীদের কাছে ঠিকমতো পৌঁছে না। উক্ত কার্যক্রমের একটি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থাকলেও সেখানে কোন আদিবাসী প্রশিক্ষক নেয়া হয়নি। তাছাড়া, আদিবাসী যুবরা সেখানে প্রশিক্ষণ নিতে আগ্রহী হলেও তাদের গুরুত্ব না দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বলে তিনি শোনান।

অংশগ্রহণকারী রুমা মুন্ডা বলেন তাদের গ্রামে আদিবাসীদের রেশন ছাড়া আর কোন ধরনের ভাতা আদিবাসীদেও দেওয়া হয় না। তাছাড়া, এখন সাধারণ একটি সরকারি চাকরির জন্য আদিবাসীদের কাছ থেকে ৮-৯ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়। এভাবে চলতে থাকলে আদিবাসীদের উন্নয়ন কীভাবে হবে, তিনি প্রশ্ন রাখেন। দিপালি মুন্ডা বলেন তারা সবসময় এখানে  সুপেয় পানির সমস্যায় ভোগেন। সুপেয় পানি সংগ্রহে প্রতিদিন তাদের দীর্ঘ সিরিয়াল দিতে হয়।

আনিন্দিনী মুন্ডা বলেন, ‘আমরা প্রথমে আমাদের খাস জমির বন্দোবস্ত চাই। যুগ যুগ ধরে বসত করে আসা আমাদের ভিটেমাটির এখনো কোন দলিল নেই।’ আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার ন্যাশনাল প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর, আলেক্সসিউস চিছাম বলেন, দেশে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর ১৪৫ ধরণের কার্যক্রম বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে। কিন্তু আদিবাসীরা এ থেকে কতটুকু সেবা পাচ্ছে! এই সেবা গ্রহণে আদিবাসীদের যেমন উদ্বুদ্ধ করতে হবে, সরকারকেও আদিবাসীদের প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে তা না’হলে
টেকসই উন্নয়নের অভীষ্ট পূরণ হবে না।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন কৃষ্ণপদ মুন্ডা, নির্বাহী পরিচালক, সামস্। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন কাপেং ফাউন্ডেশন নির্বাহী পরিচালক, পল্লব চাকমা, আদিবাসী নারী নেত্রী দিপালী রানী মুন্ডা এছাড়াও কাপেং ফাউন্ডেশন থেকে উজ্জ্বল আজিম. সোহেল হাজং, হেলেনা তালাং ও সুজয়া ঘাগ্রা।

ছবি -সোহেল হাজং

Facebook Comments

এক নজরে

উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদে আদিবাসীদের জন্যে আসন সংরক্ষণ করতে হবেঃ মেমন

আচিক নিউজ ডেস্কঃ  আদিবাসী জাতিগোষ্ঠী–অধ্যুষিত এলাকার উপজেলা ও  ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) আদিবাসীদের জন্যে আসন সংরক্ষন …

error: Content is protected !!